বিশ্ব রাজনীতিতে ফের এক নাটকীয় মোড় এনে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আসন্ন সর্বাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতি আপাতত এড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি এমন বিধ্বংসী সামরিক শক্তির প্রদর্শনীর হুমকি দেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অনুরোধ এবং একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির রূপরেখা নিয়ে আলোচনার দাবি তুলে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।
গত শনিবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তেহরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি আপাতত হামলা স্থগিত করার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এই স্থগিতাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে একটি দ্রুত ও কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার ওপর
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর সাথে চলা কূটনৈতিক আলোচনার ভিত্তিতে একটি সার্বিক চুক্তির প্রাথমিক কাঠামো ইতিমধ্যেই নির্ধারিত হয়েছে। এই প্রস্তাবিত চুক্তির মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পিছু হটার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, গত কয়েক দিনে কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা ওয়াশিংটনের সাথে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হলে তা গোটা অঞ্চলকে কী ধরণের ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় এবং সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।
ইরানের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে তেল অবকাঠামো এবং আঞ্চলিক মিত্রদের মাধ্যমে পাল্টা আঘাত হানার কঠোর হুশিয়ারি আসায় উপসাগরীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছিল যে, মার্কিন বা ইসরায়েলি বিমান হামলা শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়বে। বিশেষ করে লোহিত সাগর সংলগ্ন জলপথে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল।