ভূমিকম্পের পরপরই আরিয়াকে ও ইয়াতসুশিরো সাগর উপকূলের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (JMA)। উপকূলবাসীদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে এইওন (AEON) মল কুমামোতোতে। ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পর একটি সম্ভাব্য গ্যাস লিক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং মলের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে একাধিক মানুষকে জীবিত উদ্ধার করলেও, এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সেনাবাহিনী, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। কুমামোতোর একটি কাগজ কারখানায় চিমনি ধসে পড়ে কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন, যাদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। প্রবল কম্পনে বহু বাড়ি, সেতু ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গের বিভিন্ন অংশেও ফাটল ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং বহু জায়গায় আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। ভূমিকম্পের জেরে ৩৬ হাজারেরও বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কুমামোতো বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন)-সহ রেল পরিষেবা নিরাপত্তার স্বার্থে স্থগিত করা হয়। জাপান সরকার প্রায় ২ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, মানুষের জীবন রক্ষাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং উদ্ধারকাজে ৪,৫০০-রও বেশি আত্মরক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে জাপানের শিল্পক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা লেগেছে। টয়োটা, হোন্ডা, সনি, টিএসএমসি, রেনেসাস ও টোকিও ইলেকট্রনের একাধিক কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক অটোমোবাইল ও সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, নিকটবর্তী পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে আগামী কয়েকদিন শক্তিশালী আফটারশক ও ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।