news-details
অন্যান্য

শ্রাবনে নিজের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পুজো দিন এই ৭ মন্দিরে পশ্চিমবঙ্গের কোণে কোণে ছড়িয়ে রয়েছে অজস্র জাগ্রত শিবক্ষেত্র। কিছু মন্দিরে লুকিয়ে রয়েছে অলৌকিক বিশ্বাস, আবার কোথাও রয়েছে বহুকালের রূপকথা ও রহস্য। শ্রাবণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় জমে এস

শ্রাবণে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় জমে এসব ধামে। আপনি কি চেনেন বাংলার এমন ৭ বিখ্যাত শিবধাম? আসুন, জানা যাক এমনই সাত শিবক্ষেত্রের মাহাত্ম্য। * তারকেশ্বর, হুগলি: হুগলির তারকেশ্বর বাংলার সবচেয়ে জনপ্রিয় শিবতীর্থ। অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে বাবা তারকনাথ পূজিত হন। কথিত আছে, জঙ্গল ঘেরা এই অঞ্চলে এক অলৌকিক শিবলিঙ্গের সন্ধান মিলেছিল। মন্দিরের সংলগ্ন দুধপুকুরে স্নান করলে রোগব্যাধি সারে বলে ভক্তদের বিশ্বাস। * ১০৮ শিবমন্দির, কালনা: পূর্ব বর্ধমানের কালনায় অবস্থিত ১০৮ শিবমন্দির এক অদ্ভুত স্থাপত্যের নিদর্শন। ১৮০৯ সালে বর্ধমানরাজ এটি নির্মাণ করেন। দুটি জ্যামিতিক বৃত্তে মোট ১০৮টি মন্দির সাজানো। একটি বৃত্তে ৭৪টি এবং অন্যটিতে ৩৪টি মন্দির রয়েছে। জ্যামিতিক বিন্যাসের অন্তরালে গভীর আধ্যাত্মিক প্রতীকী অর্থ লুকিয়ে আছে বলে মনে করা হয়। * বক্রেশ্বর, বীরভূম: বীরভূমের বক্রেশ্বর তার প্রাকৃতিক উষ্ণ প্রস্রবণের জন্য সুপরিচিত। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, অষ্টাবক্র মুনি এখানে কঠোর তপস্যা করে শিবের বর লাভ করেন। সতীপীঠ ও শিবক্ষেত্রের এই মেলবন্ধন অত্যন্ত পবিত্র। * একটেশ্বর, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার গন্ধেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত একটেশ্বর মন্দির এক বিরল আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এখানে মহাদেব 'একপাদ' শিব হিসেবে পূজিত হন। অর্থাৎ এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকা শিবমূর্তি। এমন রূপ বাংলায় অত্যন্ত বিরল। * ভূকৈলাস, কলকাতা: খিদিরপুরের ভূকৈলাস রাজবাড়ির শিবমন্দির বিশালতার জন্য পরিচিত। ১৭৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দিরে রয়েছে জোড়া বিশালাকার কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। নাম 'রক্তকমলেশ্বর' ও 'পতিতপাবনেশ্বর'। জনশ্রুতি বলে, এই মূর্তি স্থাপনের সময় অলৌকিক কিছু ঘটনা ঘটেছিল। এত বড় একক পাথরের শিবলিঙ্গ ভারতের আর কোথাও মেলা বেশ কঠিন। * মহাকাল মন্দির, দার্জিলিং: দার্জিলিংয়ের অবজারভেটরি হিলে অবস্থিত মহাকাল মন্দির ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য প্রতীক। এখানে একই বেদিতে হিন্দু পুরোহিত শিবপুজো করেন এবং বৌদ্ধ লামারা মন্ত্র জপ করেন। * শিবনিবাস, নদিয়া: নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের শিবনিবাস রাজরাজেশ্বর মন্দিরের প্রধান আকর্ষণ হল এর বিশালতা। ১৭৫৪ সালে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এখানকার কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গটি প্রায় ৯ ফুট উঁচু।

You can share this post!