বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এটি হবে কমনওয়েলথ গেমসের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত শতবর্ষের (Centenary Edition) আসর। ১৯৩০ সালে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক একশো বছর পর এই ঐতিহাসিক প্রতিযোগিতার আয়োজনের দায়িত্ব পেল ভারত। এটি হবে দ্বিতীয়বার, যখন ভারত কমনওয়েলথ গেমসের আয়োজক হচ্ছে। এর আগে ২০১০ সালে নয়াদিল্লিতে সফলভাবে এই আন্তর্জাতিক বহু-ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল দেশ। দীর্ঘ দুই দশক পর আবারও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রীড়াবিদদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। আয়োজকদের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের আসরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭টি বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে কোন কোন খেলা চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে, তা পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। প্রতিযোগিতার জন্য আহমেদাবাদের বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করা হবে। আধুনিক স্টেডিয়াম, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অ্যাথলিট ভিলেজ, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নাগরিক পরিকাঠামোকে বিশ্বমানের করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, পর্যটন, কর্মসংস্থান, হোটেল শিল্প, পরিবহণ এবং স্থানীয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় অর্থনৈতিক গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩০ সালের কমনওয়েলথ গেমস সফলভাবে আয়োজন করা ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনের লক্ষ্যের দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের ক্ষেত্রে ভারতের সক্ষমতা প্রদর্শনের বড় সুযোগ তৈরি হবে এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। এদিকে, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের সমাপনী অনুষ্ঠানে ভারতের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয় কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা ও আনুষ্ঠানিক ব্যাটন। ভারতের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন অলিম্পিকে সোনাজয়ী জ্যাভলিন তারকা নীরজ চোপড়া এবং ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পি. টি. ঊষা। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় আহমেদাবাদ কমনওয়েলথ গেমস ২০৩০-এর কাউন্টডাউন। শতবর্ষের এই ঐতিহাসিক আসরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহের পারদ চড়তে শুরু করেছে। ভারতের ক্রীড়া ইতিহাসে এটি এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং বিশ্বের সামনে দেশের ক্রীড়া সংগঠন ও পরিকাঠামোর সক্ষমতা তুলে ধরার এক বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।