এ এক অদ্ভুত নেশা। মমতা সরকার আসার পরে বাম সরকারের সময়ের অনেক রাস্তার নামপরিবর্তন করেছিল আর শুভেন্দু সরকার বাম ও তৃণমূলের সময়ের করা রাস্তার নাম পরিবর্তনকরছে। বদলের বাংলায় একঝাঁক রাস্তা পাবে নতুন নাম। বিশ্ব বাংলা সরণি, পার্ক সার্কাসসেভেন পয়েন্টের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নাম বদলে যেতে পারে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে দেওয়া কমিটির নামের সুপারিশেই নতুন নামকরণ হবে শহরের একগুচ্ছরাস্তার। উল্লেখযোগ্য, বিশ্ব বাংলা সরণির নাম বদলে হতে পারে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেবেরনামে। তেমনটাই খবর সূত্রের। মুছে যেতে পারে লেলিন-কার্লমার্কসের মতো সরণিগুলিরনামও। গোপাল পাঁঠার নামে রাস্তার নামকরণ নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টজানিয়েছিলেন, “কলকাতায় কোনও মুঘল, পাঠান, অত্যাচারী ব্রিটিশের নামে নামকরণথাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া কোনও বিদেশির নাম থাকবে না।”
তাঁর কথায়, “এপিজে আব্দুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্ত থাকলে তথ্য দিন, মর্যাদা দেবে রাজ্য সরকার। ” নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটিও গড়ে দেন তিনি। সেইকমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয় কার্তিক মহারাজকে। সেই কমিটির সুপারিশ করা নাম পৌঁছে যাবেসরকারের কাছে। সরকারি অনুমোদনের পরেই ধাপে ধাপে বদলে ফেলা হবে শহরের বেশকয়েকটি রাস্তার নাম। ইতিমধ্যেই নামবাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, পুজোরআগেই বিশ্ববাংলা সরণিতে বসতে পারে নতুন নামের ফলক। রাস্তার নতুন নামকরণ প্রসঙ্গেকার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, “আমরা বাংলার ঐতিহাসিকবিদ, যারা স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত, ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। সেই কমিটিতে দশটি নামনিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কোন জায়গায় কোন নাম হবে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।বর্তমান প্রজন্মের ধারনা বদলে ফেলার চেষ্টা হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে। ভুল বার্তারজন্য বিদেশিরা তাদের সংস্কৃতি আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে পেরেছিল। আমরা চাই ভারতীয়উৎকর্ষের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের নামেই নামাঙ্কিত হোক সরণি।”