news-details
খেলা

অবৈধ মাটি কাণ্ডে আরও চাপে CAB । মাটি নিয়ে ধোঁয়াশায় বঙ্গ ক্রিকেট। মাটি বিতর্কে CAB বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি ঘিরে বাড়ছে ধোঁয়াশা। স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে কি, উঠছে প্রশ্ন।

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি-র অন্দরমহলে এই মুহূর্তে রীতিমতো শোরগোল ফেলে দিয়েছে পিচ তৈরির মাটি সংক্রান্ত একটি অপ্রত্যাশিত জটিলতা। গত কয়েক বছর ধরে শহরের ঐতিহ্যশালী ময়দান সহ সমস্ত অনুমোদিত ক্লাব ও সংস্থাকে এক মানের পিচ উপহার দিতে নিজস্ব উদ্যোগে মাটি সরবরাহ করে আসছে সিএবি। উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট— ময়দানের প্রতিটি কোণায় যেন ক্রিকেটের উপযোগী সমমানের পিচ তৈরি হয়, যেখানে ব্যাটে-বলে জমজমাট লড়াই দেখতে পাবেন দর্শকরা। তবে নতুন মরশুমের দোরগোড়ায় এসে সেই মাটি সরবরাহ প্রক্রিয়াতেই দেখা দিয়েছে বড়সড় বিপত্তি।

খোঁজ নিয়ে যা জানা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনার এক নির্দিষ্ট ব্যক্তি বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে সিএবি-কে এই পিচ তৈরির মাটি সরবরাহ করে আসছিলেন। কিন্তু চলতি মরশুমে সেই সরবরাহ চেইনে বড় ধাক্কা লাগে। ওই ব্যক্তি সম্প্রতি সিএবি কর্তৃপক্ষকে জানান যে, পুলিশের কড়া নজরদারি ও গাড়ি আটকের কারণে তিনি আর উত্তর ২৪ পরগনা থেকে কলকাতায় মাটি পাঠাতে পারছেন না। তিনি এও জানান যে, এই পরিস্থিতিতে মাটি পাঠাতে হলে উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের কার্যালয় থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে।

এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সিএবি-র দুই প্রতিনিধি সরাসরি উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের দফতরে গিয়ে হাজির হন। সেখানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর যে তথ্য সামনে আসে, তাতে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েন সিএবি প্রতিনিধিরা। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি সংস্কার) সিএবি প্রতিনিধিদের স্পষ্টভাবে জানান যে, যে ব্যক্তির কাছ থেকে এতদিন মাটি নেওয়া হচ্ছিল, তাঁর মাটি কাটার বা সরবরাহের কোনও বৈধ লাইসেন্স বা আইনি ছাড়পত্রই নেই!

বৈধ ডিলারের সন্ধান

একটি দায়িত্বশীল রাজ্য ক্রিকেট সংস্থাকে কেন একজন লাইসেন্সহীন ব্যক্তির উপর নির্ভর করতে হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি সংস্কার) সিএবি প্রতিনিধিদের কাছে সরাসরি জানতে চান, সরকারি নিয়ম মেনে কেন সবসময় নিবন্ধিত ও বৈধ ডিলারের মাধ্যমেই মাটি সংগ্রহ করা হয় না?

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসন অবশ্য শেষ পর্যন্ত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১২ জন বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলারের নাম এবং তাঁদের যোগাযোগের ফোন নম্বর সিএবি প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, চলতি মরশুমের কথা মাথায় রেখে যাতে মাঠগুলির প্রস্তুতিতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, তার জন্য আপাতত একটি বিশেষ ব্যবস্থা করে দেওয়ারও আশ্বাস দেয় জেলা প্রশাসন

CAB বিবৃতি ও প্রতিক্রিয়া

জেলা প্রশাসনের দফতরে সিএবি প্রতিনিধিদের এই অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা এবং লাইসেন্সহীন মাটি সরবরাহ সংক্রান্ত খবরটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেতেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে ক্রিকেট মহলে। সিএবি-র প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন ময়দানের বিভিন্ন ক্লাবের কর্তারা।

খবর প্রকাশ্যে আসার ঠিক তিন দিন পর একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে সিএবি। সেই বিবৃতিতে বলা হয়, "সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই ধরনের খবর দেখে আমরা অত্যন্ত বিস্মিত।" সিএবি-র তরফে জোরালোভাবে দাবি করা হয়েছে যে, গত ১৫ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে অনুমোদিত মাঠগুলিকে পিচ তৈরির জন্য মাটি সরবরাহ করে আসছে তারা। তবে বিবৃতিতে লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতা বা প্রশাসনের দেওয়া ১২ জন বৈধ ডিলারের নাম নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করা হয়নি বলেই খবর।

You can share this post!