বইমুখী নতুন প্রজন্ম ও সমাজ সচেতনতা: নবীনদের অনুপ্রেরণা সাহিত্যিক-নির্মাতা শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস
বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: ডিজিটাল স্ক্রিন ও স্মার্টফোনের অতিরিক্ত আসক্তি যখন আধুনিক সমাজব্যবস্থা এবং নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছেন বর্তমান যুগের মেধাবী তরুণ-তরুণীরা। প্রযুক্তি ও মোবাইলের কুপ্রভাব সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন হয়ে আজকের নতুন প্রজন্ম আবার ধীরে ধীরে বইয়ের পাতা ও সাহিত্যের ভুবনে ফিরে আসছে। আর নবীন এই পাঠকদের বইমুখী করার ক্ষেত্রে এবং চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক অনুপ্রেরণা জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন কলকাতার প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী শর্মিষ্ঠা বিশ্বাস।
শিক্ষাগত যোগ্যতায় অত্যন্ত উজ্জ্বল শর্মিষ্ঠা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চলচ্চিত্রবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (IGNOU) থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। নিজের পড়াশোনা ও মেধার সুষম প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর লেখার প্রতিটি পরতে। বর্তমানে সাহিত্যচর্চা এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তিনি একটি সুপরিচিত সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেল—‘Sharmistha & Books’ পরিচালনা করেন। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে তিনি নিয়মিত সাহিত্য, বই পর্যালোচনা এবং সৃষ্টিশীল বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, যা সামাজিক মাধ্যমে বইপ্রেমী ও তরুণদের ব্যাপকভাবে আকৃষ্ট করেছে।
তরুণ প্রজন্মের লেখিকা হিসেবে শর্মিষ্ঠা ইতিমধ্যেই পাঠক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছেন। তাঁর মৌলিক ও আকর্ষণীয় লেখা স্থান পেয়েছে ‘আনন্দমেলা’ ও ‘কিশোর ভারতী’র মতো রাজ্যের একাধিক স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী পত্র-পত্রিকায়। পাঠকদের মধ্যে তাঁর এই গ্রহণযোগ্যতা আরও একধাপ এগিয়েছে চলতি বছরের শারদীয়া সংখ্যায়; যেখানে মর্যাদাপূর্ণ ‘সারথি’ পত্রিকাতেও তাঁর নতুন লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি বিভিন্ন নামী গল্পসংকলনেও তাঁর একাধিক গল্প স্থান পেয়ে পাঠকের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
কেবল পত্র-পত্রিকাতেই থমকে নেই তাঁর সাহিত্যিক যাত্রা। শর্মিষ্ঠা বর্তমানে জোরকদমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁর প্রথম একক বই প্রকাশের জন্য, যা আগামী আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশ পেতে চলেছে।
শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যপ্রেমীদের মতে, সমাজকে প্রযুক্তি ও ডিভাইসের গ্রাস থেকে মুক্ত করে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে শর্মিষ্ঠার মতো মেধা ও সমাজ সচেতনতার যুগলবন্দি অত্যন্ত প্রয়োজন। নিজের যোগ্যতা, মেধা এবং সাহিত্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে তিনি আজ নবীন প্রজন্মের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন।