news-details
দেশ

মেটার কনটেন্ট মডারেশন বিতর্কে মার্ক জাকারবার্গের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষমা চাইল সংসদীয় কমিটি

কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু কোম্পানির তরফে ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়; মেটার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মার্ক জাকারবার্গকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি ফেসবুক ভিডিওকে ঘিরে। ভিডিওটিতে তিনি NEET পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দেশবাসী, বিশেষ করে তরুণদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। কিন্তু ভিডিওটি কিছু সময়ের জন্য ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে মেটা জানায়, এটি ইচ্ছাকৃত নয়, বরং প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভুলবশত ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে ভিডিওটি পুনরায় চালু করা হয় এবং সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশও করা হয়। এ ঘটনার পর ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) মেটার গ্লোবাল পাবলিক পলিসি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে তলব করে এবং বিষয়টির ব্যাখ্যা চায়। সরকারের অভিযোগ, এমন সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে কনটেন্ট মডারেশন প্রক্রিয়ায় কীভাবে এই ধরনের ভুল ঘটল, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত (Algorithmic Bias) এবং কনটেন্ট মডারেশন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিরা সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইলেও কমিটি সেই ক্ষমা প্রত্যাখ্যান করে। কমিটির চেয়ারম্যান নিশিকান্ত দুবে জানান, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে মার্ক জাকারবার্গকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যদি তা না করা হয়, তাহলে মেটার 'সেফ হারবার' (Safe Harbour) সুরক্ষা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হতে পারে। এই আইনি সুরক্ষা থাকলে ব্যবহারকারীদের পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে সামাজিক মাধ্যম সংস্থাগুলি সরাসরি দায়ী হয় না। এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতে মেটার কনটেন্ট মডারেশন নীতি, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, অ্যালগরিদমের নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্ট পরিচালনা ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল হওয়া জরুরি।

You can share this post!