news-details
অন্যান্য

ছত্তিশগড় রাজ্যের গরিয়াবন্দ জেলার পাহাড় আর জঙ্গলের কোলে লুকিয়ে থাকা অত্যন্ত প্রাচীন গুপ্তেশ্বর মহাদেব মন্দির

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘকাল ধরে দাবি করে আসছেন, রাতের বেলা যখন মন্দিরের ভারী দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়, শিকল তুলে দেওয়া হয়, এবং মানুষের চিহ্ন অবধি থাকে না, ঠিক তখনই নাকি মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ভেসে আসে মন্দিরের ঘন্টার সুস্পষ্ট আওয়াজ। কিন্তু এর পেছনে আসল কাহিনি কী? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ভক্তদের একাংশ এটিকে সাক্ষাৎ ভগবান শিবের বা মহাদেবের নিজস্ব দিব্য উপস্থিতির পরম অনুভূতি বলেই মনে করেন। বিশ্বাস করা হয়, দেব-দেবীর বাসস্থানে এক স্বর্গীয় শক্তির আগমন ঘটে। শাস্ত্র মতে, শিবমন্দিরে ঘণ্টার এই পবিত্র ধ্বনি চারপাশের সমস্ত ক্ষতিকর ও নেতিবাচক শক্তিকে দূর করে মনকে এক অদ্ভুত অম্লান শান্তিতে ভরিয়ে দেয়। জ্যোতিষশাস্ত্রবিদ ও পণ্ডিতদের মতে, এমন প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থস্থানে বিশেষ কিছু আধ্যাত্মিক শক্তি পুঞ্জীভূত থাকে, যা ভক্তদের মননে এক গভীর প্রভাব ফেলে। তবে বিজ্ঞানের চোখ অবশ্য বিষয়টিকে একটু অন্যভাবে বিচার করতে চায়। বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলের তীব্র হাওয়া, ধাতুর ভৌতিক কম্পন কিংবা প্রকৃতির স্বাভাবিক ধ্বনি অনেক সময় ঘণ্টার আওয়াজের মতো ভ্রম তৈরি করতে পারে। যদিও এই তত্ত্বের কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আজও মেলেনি, তবুও ভক্তদের বিশ্বাসে এতটুকুও চির ধরেনি। বিশেষ করে পবিত্র শ্রাবণ মাস এবং মহাশিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে এই মন্দিরের ছবিটা পুরোপুরি বদলে যায়। অগণিত ভক্তের ঢল নামে মন্দির প্রাঙ্গণে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন শুধুই এক ঘটি জল ঢালতে, মহা ধুমধামে চলে জলাভিষেক আর রুদ্রাভিষেক। ভক্তদের বিশ্বাস, এই ধামে মন থেকে মানত করলে তা নাকি সরাসরি মহাদেবের কাছে পৌঁছয়।

You can share this post!