দুর্ঘটনার পর ভিয়েতনাম, চীন ও ফিলিপাইনের যৌথ উদ্যোগে বড়সড় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ভিয়েতনামের নিবন্ধিত ‘খোই নুগুয়েন ১৮’ (Khoi Nguyen 18) নামের মালবাহী জাহাজটিতে মোট ৬২ জন ভিয়েতনামি নাগরিক ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ফায়ারি ক্রস রিফ (Fiery Cross Reef)-এর কাছে প্রবল ঝড় ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যে জাহাজটি বিপদের মুখে পড়ে এবং পরে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই জাহাজ থেকে বিপদ সংকেত (ডিস্ট্রেস সিগন্যাল) পাঠানো হয়। চীনের উদ্ধারকারী জাহাজ নানহাই জিউ ১১৫ প্রথম বিপদ সংকেত শনাক্ত করে এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরে সমুদ্রে ভাসমান একটি লাইফ র্যাফট থেকে বহু নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী উদ্ধার অভিযানে মোট ৪৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও ১৭ জনের কোনো খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে ভিয়েতনাম, চীন ও ফিলিপাইনের নৌ ও উপকূলরক্ষী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে। উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ, হেলিকপ্টার, নজরদারি বিমান এবং আশপাশে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলিকেও। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড উন্নত অনুসন্ধান পরিকল্পনা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সমন্বিতভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়। চীনের দ্রুত সহযোগিতার জন্য ভিয়েতনাম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে এই অঞ্চলটি চীন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও তাইওয়ানের মধ্যে দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বিরোধের কেন্দ্র। সেই উত্তেজনার মাঝেও মানবিক কারণে তিন দেশের যৌথ উদ্ধার অভিযান আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সমুদ্রের মধ্যেও নিখোঁজ ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধারের আশায় দিনরাত এক করে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।