ম্যাচের শুরু থেকেই থমাস টুচেলের ইংল্যান্ড ফুটবল দল ফরাসি রক্ষণভাগের ওপরস্টিমরোলার চালায়। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে এক চোখধাঁধানোলং-রেঞ্জ শটে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ডেকলান রাইস। ১৮ মিনিটে ডেকলানরাইসের চমৎকার কর্নার কিক থেকে হেডের সাহায্যে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন এজরিকোন্সা। প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার আগেই ফরাসি ডিফেন্সের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ৩৭এবং ৪৫+১ মিনিটে পর পর দুটি গোল করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন বুকায়োসাকা। ফলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় থ্রি লায়ন্সরা। বিরতির পর ৪ গোলহজম করা ফ্রান্সের ডাগআউটে বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশঁ একযোগে চারটি পরিবর্তনআনেন। এর পরেই ম্যাচের চিত্রপট সম্পূর্ণ বদলে যায়। ৪৭ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে গোলকরে ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ব্যবধান কমান। এই গোলের মাধ্যমে তিনি গোল্ডেন বুটের দৌড়েলিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে যান।
৫৩ মিনিটে তরুণ উইঙ্গার ব্রাদলে বারকোলা চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৪-২ করেম্যাচ জমিয়ে তোলেন। ৬৫ মিনিটে এমবাপে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফ্রান্সকে ৪-৩ব্যবধানে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালেরসর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েন। ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ইংল্যান্ডের কোচটুখেল তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যামকে মাঠে নামান। ৮৬ মিনিটে বক্সের ভেতরফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণকরেন বুকায়ো সাকা এবং ইংল্যান্ডকে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে ফরাসিদের ঘুরে দাঁড়ানোরআশায় জল ঢেলে দেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের রোমাঞ্চ আরওবাড়ে। ইনজুরি টাইমের ৯০+৫ মিনিটে ফ্রান্সের উসমান ডেম্বেলে গোল করে স্কোরলাইন ৫-৪করলে গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে এর ঠিক দুই মিনিট পর (৯০+৭ মিনিটে) জুড বেলিংহ্যাম ঠান্ডা মাথায় গোল করে ইংল্যান্ডের পক্ষে ম্যাচের শেষ গোলটি করেন। শেষপর্যন্ত রেফরির শেষ বাঁশিতে ৬-৪ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইংল্যান্ড।