রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। ভারত জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের হামলা বা উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ভারত মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক সংঘাত আরও বাড়ানোর পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কারণ উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী বহু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হাজার হাজার ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিদেশে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। এর প্রভাব ভারতের মতো তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপরও পড়তে পারে। ভারত রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পুনরায় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র কার্যকর পথ। বিশ্ব শান্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় সব দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপরও জোর দিয়েছে ভারত। এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলের মতে, হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।