news-details
রাজ্য

কোতুলপুরে ফায়ার স্টেশনের দাবিতে বিধানসভায় সরব বিধায়ক,খুশি এলাকাবাসী

বাঁকুড়া,কোতুলপুর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের আশায় নতুন করে আশার আলো দেখছেনকোতুলপুরবাসী। কোতুলপুর বিধানসভার বিধায়ক লক্ষীকান্ত মজুমদার সম্প্রতি বিধানসভারবাদল অধিবেশনে কোতুলপুরে একটি ফায়ার স্টেশন (দমকল কেন্দ্র) স্থাপনের দাবি উত্থাপনকরেছেন। তাঁর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার বাসিন্দারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশকরেছেন।

বিধায়ক লক্ষীকান্ত মজুমদার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান,বর্তমানে কোতুলপুরেরনিকটবর্তী দমকল কেন্দ্র রয়েছে আরামবাগ ও বিষ্ণুপুরে। আরামবাগের দূরত্ব প্রায় ৩০কিলোমিটার এবং বিষ্ণুপুরের দূরত্ব প্রায় ৩২ কিলোমিটার। ফলে কোনও অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনাঘটলে দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। এর ফলে ব্যাপকক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় সাধারণ মানুষকে।

তিনি বলেন,কোতুলপুর ব্লক এবং পার্শ্ববর্তী ইন্দাস,জয়পুর ও হুগলির গোঘাট এলাকারমানুষের সুবিধার্থে কোতুলপুরে একটি দমকল কেন্দ্র অত্যন্ত প্রয়োজন।সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীরকাছে আমি আবেদন জানাচ্ছি, যাতে দ্রুত এই এলাকায় একটি ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা হয়।

উল্লেখ্য, কোতুলপুর ব্লকে আটটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এছাড়াও আশপাশের একাধিকএলাকার মানুষও এই কেন্দ্রের পরিষেবা পেতে পারেন। ফলে কোতুলপুরে ফায়ার স্টেশন গড়েউঠলে বৃহত্তর এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কোতুলপুরের বাসিন্দা মান্তু কুমার দে বলেন, বিধায়ক মহাশয়কে আমরা ধন্যবাদ জানাই।কোতুলপুরে ফায়ার স্টেশন আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। কয়েক মাস আগে একটি জুতোরগুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। আরামবাগ ও বিষ্ণুপুর থেকে দমকল পৌঁছানোরআগেই অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। তাই কোতুলপুরে দমকল কেন্দ্র হলে সাধারণ মানুষের খুবউপকার হবে।

তিনি আরও বলেন,এর আগে বহু বিধায়ক ছিলেন, কিন্তু কেউ এই বিষয়টি বিধানসভায়তোলেননি। বর্তমান বিধায়ক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে উত্থাপন করেছেন। এখন আমরা চাই এইপ্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়িত হোক।

অন্যদিকে, কোতুলপুরের আর এক বাসিন্দা শুভাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন,এটি অত্যন্ত ভালোউদ্যোগ। বহুদিন ধরে আমরা একটি ফায়ার স্টেশনের প্রয়োজন অনুভব করে আসছি।বিষ্ণুপুর বা আরামবাগ থেকে দমকল আসতে অনেক সময় লেগে যায়। বিধায়ক এই দাবিবিধানসভায় তুলেছেন, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

তিনি আরও জানান,কোতুলপুরে উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবারও প্রয়োজন রয়েছে। স্থানীয়স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো আরও উন্নত করার দাবি জানান তিনি।

কোতুলপুরে ফায়ার স্টেশন স্থাপনের দাবি দীর্ঘদিনের। বিধানসভায় বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ারপর এলাকাবাসীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন সকলের নজর রাজ্যসরকারের সিদ্ধান্তের দিকে। দাবি বাস্তবায়িত হলে কোতুলপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকারঅগ্নিনির্বাপণ পরিষেবা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

You can share this post!