news-details
দেশ

দিল্লি পুলিশের বর্বরতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করে নীরব সরকার

শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করতে আবারও পুলিশের নগ্ন ও বরবর রূপ দেখলরাজধানী দিল্লি। গতকাল যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত নির্দোষ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষেরওপর দিল্লি পুলিশের চালানো লাঠিচার্জ, অমানবিক হামলা এবং অবৈধ গ্রেফতার কেবলএকটি প্রতিবাদ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা নয়, বরং ভারতের সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে (Article 19) নিশ্চিত করা বাক-স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশের মৌলিক অধিকারের ওপর একসরাসরি আঘাত।
পুলিশের বেআইনি তাণ্ডব ও নামফলক (Nameplate) না থাকার রহস্য
গতকাল ‘কক্‌রোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে এনইইটি (NEET) প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারিরপ্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত তরুণ শিক্ষার্থীদের ওপর যেউপায়ে আক্রমণ চালানো হয়েছে, তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের পুলিশ প্রশাসনের আচরণহতে পারে না।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও প্রশ্নজনক বিষয় হলো—গতকাল লাঠিচার্জকারী বহু পুলিশ কর্মকর্তারগায়ে কোনো নেমপ্লেট (Nameplate) বা নামফলক ছিল না।
পুলিশের ইউনিফর্মে নামফলক না থাকা সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা ও পুলিশআইনের মারাত্মক লঙ্ঘন।নিজেদের পরিচয় লুকিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করার পেছনেপুলিশের উদ্দেশ্য কী ছিল?কার নির্দেশে তারা নামফলক সরিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের রক্তেরওপর নিজেদের অপরাধ লুকিয়ে রাখতে চেয়েছিল?পুলিশ কর্মকর্তা এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর এই জবাবদিহিতাহীন এবং ক্ষমতারঅপব্যবহার প্রশাসন ও আইনের শাসনের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ওপর নৃশংসতা
সংবাদমাধ্যমের প্রত্যক্ষদর্শীদের রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল কোনো উসকানি ছাড়াইছাত্র-ছাত্রীদের ওপর দফায় দফায় পৈশাচিক লাঠিচার্জ চালানো হয়। ১৬০ জনেরও বেশিআহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেরই অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থাকরার পরিবর্তে বহু শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে।এমনকি সমাজসেবী ও আন্দোলনকারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে কণ্ঠ স্তব্ধ করারঅপচেষ্টা চলছে।
সরকার কেন নীরব? কোথায় গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা?
যখন রাজপথে দেশের ভবিষ্যৎ ছাত্রসমাজ রক্তাত্ম হচ্ছে, তখন প্রশ্ন ওঠে—কোথায় সরকার? কেন নীরব কেন্দ্রীয় সরকার ও শিক্ষামন্ত্রী?
১. লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ প্রশ্নবিদ্ধ করা প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির পর কেন জবাবদিহিতাএড়ানো হচ্ছে?
২. শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখোমুখি না হয়ে কেন পুলিশি লাঠি, টিয়ার গ্যাস আর ১৪৪ ধারের(BNSS ১৬৩) আড়ালে লুকোচ্ছে প্রশাসন?
৩. দেশের নাগরিকরা যখন গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে প্রশ্ন তুলছেন, তখন সরকারকথা না বলে পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করছে কেন?
সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদ প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণআন্দোলনের অধিকার দেয়। কিন্তু গতকালের ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে আইন ওনিরাপত্তার দোহাই দিয়ে জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করা হচ্ছে।
পুলিশি বর্বরতার এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নামফলকহীন পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধেআইনি ব্যবস্থা এবং সরকারের কাছ থেকে অবিলম্বে স্পষ্ট জবাবদিহিতার দাবি জানাচ্ছেসচেতন নাগরিক সমাজ। গণতন্ত্রে জনগণের কণ্ঠ রোধ করে লাঠির জোরে শাসন চালানো যায়না—সরকারকে এই সত্য উপলব্ধি করতেই হবে।

You can share this post!