news-details
রাজ্য

দুর্গাপুরে বিদায় নিল ‘বিশ্ব বাংলা’! শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় স্বমহিমায় ফিরছে অশোক স্তম্ভ

জল্পনা এবং বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুর্গাপুরের বুক থেকে মুছে ফেলা হলো পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতীকী চিহ্ন। সোমবার দুপুরে এক হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক তৎপরতায় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের ব্যস্ততম নগর নিগম মোড় থেকে সরিয়ে ফেলা হলো ‘বিশ্ব বাংলা’র (Biswa Bangla) লোগো। বিশাল ক্রেন এনে, প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে লোগোটি উপড়ে ফেলা হয়।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এই লোগোটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর বাড়ছিল। সোমবারের এই ঘটনার পর সেই বিতর্কে কার্যত সিলমোহর পড়ল।
ক্ষমতা বদলের পর কেন এই সিদ্ধান্ত?
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গেরুয়া শিবিরের অন্দরে ও সাধারণ মহলে প্রশ্ন উঠছিল— পরিবর্তন হলেও কেন এখনও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মোড় বা মোড়ে মোড়ে পূর্বতন শাসকদলের দলীয় ও সরকারি প্রচারের প্রতীক রয়ে গেছে?
বিজেপির একাংশের দাবি ছিল, সরকারি সম্পত্তিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট দলের প্রচারের মাধ্যম হিসেবে আর ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। সোমবারের এই উচ্ছেদ অভিযান সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
“মর্যাদা ফিরছে অশোক স্তম্ভের”: সুর চড়ালো বিজেপি
বিশ্ব বাংলার লোগো সরানোর পর স্বভাবতই খুশির হাওয়া বিজেপি শিবিরে। এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল স্পষ্ট জানান:
“বিশ্ব বাংলার নাম করে প্রাক্তন তৃণমূল সরকার আমাদের জাতীয় প্রতীক অশোক স্তম্ভকে কার্যত আড়ালে পাঠিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা এখন নতুন দিশায় এগোচ্ছে। আমরা আবার অশোক স্তম্ভকে তার যথাযথ এবং সাংবিধানিক মর্যাদা ফিরিয়ে দিচ্ছি। সেই কারণেই এই লোগো সরানোর সিদ্ধান্ত।”শিল্পাঞ্চলে নতুন রাজনৈতিক চর্চা
সিটি সেন্টারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় থেকে বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি দুর্গাপুর তথা গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ সরকারি নির্দেশিকা মেনেই করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান শুভেন্দু অধিকারীর সরকার স্পষ্ট বার্তা দিল যে, পূর্বতন জমানার সমস্ত 'প্রতীকী' চিহ্নকে সরিয়ে রাজ্যে এবার জাতীয়তাবাদের ধারা ফিরিয়ে আনা হবে। এখন দেখার, দুর্গাপুরের পর রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও বিশ্ব বাংলার লোগো সরানোর এই প্রক্রিয়া কতটা গতি পায়!

You can share this post!