বহু গ্রাম এখনও জলমগ্ন, লক্ষাধিক মানুষ ঘরছাড়া এবং রাজ্যজুড়ে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮-এ পৌঁছেছে। যদিও কয়েকটি জেলায় জল নামতে শুরু করেছে, তবুও ৫ লক্ষ ২৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনও বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে রয়েছে— - শিবসাগর - চরাইদেও - ধেমাজি - লখিমপুর - ডিব্রুগড় - যোরহাট - গোলাঘাট - তিনসুকিয়া - মাজুলি এই জেলাগুলির বহু গ্রাম এখনও জলমগ্ন। বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কেন এত ভয়াবহ বন্যা? বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতে অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণ, অরুণাচল প্রদেশ থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত জল এবং ব্রহ্মপুত্র ও তার উপনদীগুলির জলস্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নদীভাঙন এবং নিম্নাঞ্চলে জল জমে বিপর্যয়ের মাত্রা বেড়েছে। বন্যার প্রভাব - ৫.২৪ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। - হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন। - বহু কাঁচা ও পাকা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। - বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলের তলায় চলে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। - বহু রাস্তা, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। - স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযান অসম সরকার, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নৌকার মাধ্যমে দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেন্দ্রের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা করে রাজ্যকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিদর্শন করছে এবং পুনর্বাসনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি কিছু এলাকায় জল কমতে শুরু করলেও বহু নিম্নাঞ্চল এখনও প্লাবিত। প্রশাসনের আশঙ্কা, আগামী দিনে আবার ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। তাই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।