টাইফুনটি প্রথমে গুয়াংডং (Guangdong) প্রদেশে আছড়ে পড়ে। ঘণ্টায় অত্যন্ত প্রবল গতির বাতাস এবং মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় প্রায় ৭ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি শতাধিক বিমান পরিষেবা বাতিল এবং বহু ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। টাইফুন দুর্বল হলেও এর প্রভাবে হুনান (Hunan), জিয়াংসি (Jiangxi), হেনান (Henan), হুবেই (Hubei), গুয়াংশি (Guangxi) এবং গুয়াংডং (Guangdong)-সহ একাধিক প্রদেশে টানা ভারী বৃষ্টি চলছে। এর ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছে এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গানসু (Gansu) প্রদেশে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রবল বর্ষণের জেরে শুয়াংশিমেন (Shuangshimen) দর্শনীয় এলাকায় আকস্মিক বন্যা নেমে আসে। সে সময় সেখানে বহু পর্যটক ক্যাম্পিং করছিলেন। হঠাৎ নেমে আসা বন্যার জলে ১০ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন ২৩ জন। এছাড়া বহু মানুষ আটকে পড়লেও উদ্ধারকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে কমপক্ষে ১৭৪ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বিশেষ উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করেছে এবং লেভেল-IV (Level-IV) জরুরি সাড়া ব্যবস্থা চালু করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের কাজ জোরকদমে চলছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মধ্য ও দক্ষিণ চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে বন্যা, আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। প্রশাসন সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে একটি শক্তিশালী টাইফুন স্থলভাগে দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরও তার অবশিষ্টাংশ দীর্ঘ সময় ধরে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটিয়ে ব্যাপক প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি করতে পারে।